যেভাবে ১০টি চাকরির আবেদনেই আপনার চাকরি নিশ্চিত করবেন

বর্তমান সময় চাকরির প্রতিযোগীতার সময়। এ সময়ে সঠিক ভাবে আবেদন ও সঠিক ভাবে প্রস্তুতি না নিলে কিন্তু চাকরি পাওয়া সহজ নয়। তাই এ সময়ে আপনি যাতে অল্প সময়ে মাত্র ১০টি চাকরির আবেদনেই আপনার চাকরি নিশ্চিত করবেন তা নিয়ে আলোচনা করবো।

আপনি যে বিষয়ে দক্ষ সে বিষয়ে আবেদন করুন:

যে বিষয়ে আপনি দক্ষ কিংবা যে বিষয়ে আপনি পড়াশোনা করেছেন শুধুমাত্র সে বিষয়েই চাকরির আবেদন করেন। আপনার দক্ষতা নাই বা পড়াশোনা নাই এমন বিষয়ে আবেদন করলে অযথাই সময় নষ্ট হবে। যেমন আপনি টেক্সটাইল বিষয়ে পড়েছেন আপনি কি ফার্মেসি বিষয়ের চাকরির আবেদনে টিকবেন? অনেক চাকরিতে transferable skills বা স্থানান্তরযোগ্য দক্ষতাও গুরুত্বপূর্ণ। তবে প্রয়োজনীয় যোগ্যতা না থাকলে আবেদন করে সময় নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। সুতরাং আপনি যে বিষয়ে দক্ষ সে বিষয়ে আবেদন করুন তাহলে অযথা আবেদন করে টাকাও নষ্ট হবে না আর আপনার মধ্যে হতাশাও তৈরি হবে না। আর আপনি যে বিষয়ে দক্ষ যে বিষয়ে ১০ টি আবেদন করুন ইনশাল্লাহ একটিতে টিকবেনই।

লক্ষ্য স্থির করুন ও বিষয় ভিত্তিক পড়াশোনা করুন:

আপনি আসলে যে বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন সে বিষয়ে কোন পোস্টে চাকরি করতে চান তা স্থির করুন। যেমন ধরেন আপনি গণিত বিষয়ে মাস্টার্স করেছেন, এখন আপনি ঠিক করেন আপনি কলেজের শিক্ষক হতে চান, স্কুলের শিক্ষক হতে চান, ব্যাংকে চাকরি করতে চান না বেসরকারি কর্পোরেট জব করতে চান? আপনি স্কুলের শিক্ষক হতে চান তবে স্কুলের সিলেবাসে যে কয়টি বই আছে সেগুলোই বেছে বেছে পড়েন। তাছাড়া অন্য বই ব্যাংক জব, কর্পোরেট জব, পরিসংখ্যান জব ইত্যাদির যে বইগুলো আছে সেগুলো পড়ার দরকার নাই। আপনি যেটা লক্ষ্য স্থির করেছেন সেটাই পড়ুন আর সে বিষয়ে দক্ষ ও অভিজ্ঞ হয়ে উঠুন। যাতে চাকরির পরীক্ষায় যে প্রশ্নই আসুক না কেন আপনি নিশ্চিন্তে নির্ভয়ে শতভাগ উত্তর দিয়ে আসতে পারেন। তবে হ্যাঁ আপনি ১০০% কমন পাবেন না এটা স্বাভাবিক, তবে অন্তত ৯০% নম্বর তুলে আসুন আপনার চাকরি ১০ টার মধ্যে ১ টা হবেই।

পূর্বের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র বিশ্লেষণ

আপনি যে বিষয়ে পরীক্ষা দিবেন যে বিষয়ের পূর্বের বছরের প্রশ্নপত্রগুলো বিশ্লেষণ করেন। এতে করে প্রশ্নের ধরণ বা প্যাটার্ন সম্পর্কে ধারণা পাবেন। এতে আপনার প্রস্তুতি নেওয়া সহজ হবে। ধরুন আপনি উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা পদে চাকরি করবেন বলে মন স্থির করেছেন, এখন আপনার করণীয় হলো বিগত বছরের প্রশ্নগুলো বিশ্লেষণ করা। এরপর বাংলা, ইংরেজি, গণিত, সাধারণ এবং কৃষি সম্পর্কিত কোন কোন অধ্যায় হতে প্রশ্ন হয়েছে সে অধ্যায়ে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। তাছাড়াও সিলেবাসের অন্যান্য অধ্যায়ও পড়তে হবে। কারণ চাকরির পরীক্ষা প্রতিবারই কিছু না কিছু ভিন্ন ভিন্ন প্রশ্ন আসে। তাই সিলেবাস কমপ্লিট করার বিকল্প নেই। এভাবে আপনি প্রস্তুতি নেই। অল্প সময়ে অর্থাৎ ৬ মাস একনিষ্ঠভাবে পড়লেই ১০টি আবেদন করলেই আপনি টিকে যাবেন।

সঠিক বই নির্বাচন করুন

দেখা যায় বিভিন্ন প্রকাশনী অল-ইন-ওয়ান বই বের করে কিংবা শিক্ষক নিয়োগ সহায়িকা বা এরূপ পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষা ভিত্তিক বই বের করে। তাতে প্রস্তুতি নেওয়া সহজ হলেও ভালো নম্বর তুলতে হলে বিষয়ভিত্তিক বই পড়া জরুরী। সব প্রকাশনীর সব বই বেস্ট না। দেখা গেল এক লেখকের ইংরেজি বই ভালো। আবার আরেক প্রকাশনীর গণিত বই ভালো। তাই যাচাই বাছাই করে সঠিক বই নির্বাচন করতে হবে। পাশাপাশি অল-ইন-ওয়ান বইও পড়া যাবে। এতে করে পড়াশোনার কোন ফাঁক ফোকর থাকবে না। আপনি আর ১০ টা ক্যান্ডিডেটের চেয়ে এগিয়ে থাকবেন। আপনি এগিয়ে থাকলে ১০টি চাকরির আবেদনেই আপনার চাকরি নিশ্চিত ইনশাল্লাহ।

চাকরির বিজ্ঞপ্তির যোগ্যতা আগে যাচাই করুন

চাকরি বিজ্ঞপ্তি পেলেই আপনাকে আবেদন করতে হবে তেমনটি করবেন না। এতে অনেকবার পরীক্ষা দিবেন কিন্তু ফলাফল ০ (শূন্য) পাবেন। ফলে আপনি হতাশ হয়ে পড়বেন। পড়াশোনার উপর থেকে রুচি উঠে যাবে। বাপের টাকা অযথাই খরচ হবে। তাহলে কি করবেন? প্রথমেই চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত যোগ্যতা আপনার মধ্যে আছে কিনা যাচাই করুন। যোগ্যতা উল্লেখ না থাকলে কি বিষয়ে পরীক্ষা নিবে সে পরীক্ষার প্রস্তুতি আছে কিনা যাচাই করুন। যদি আপনি চাকরির বিজ্ঞপ্তির পদে লড়াই করার উপযুক্ত হন তবেই চাকরির আবেদন করুন।

যেমন: অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদে আবেদন করতে হলে আপনাকে অবশ্যই যেসব বিষয়ে আপনার যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা থাকতে হবে তা হলো: (ক) কোন স্বীকৃত বোর্ড হতে উচ্চ মাধ্যামক সার্চ ফকেট বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ; (খ) কম্পিউটার চালনায় দক্ষতা; এবং (গ) ওয়ার্ড প্রসেসিং, স্প্লেডসিট, প্রেজেন্টেশন, বেসিক কম্পিউটার ট্রাবলসুটিং-এ দক্ষতা (কম্পিউটার ওয়ার্ড প্রসেসিং, ডাটা এন্ট্রি ও টাইপিং-এ প্রতি মিনিটে বাংলায় ২০ শব্দ ও ইংরেজিতে ২০ শব্দের গতি সম্পন্ন হতে হবে)। এখন আপনার মধ্যে যদি এসব যোগ্যতা না থাকে তাহলে অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদে আবেদন করার প্রয়োজন নেই। আর আপনি যদি এসব বিষয়ে দক্ষ ও অভিজ্ঞ হন তাহলে পর্যাপ্ত পড়াশোনা করে লক্ষ্য যদি অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদ হয় তাহলে আবেদন করেন।

দুর্বল বিষয়ে গুরুত্ব দিন ও আলাদা নোট করুন

যে বিষয়ে আপনি দুর্বল সে বিষয়ে আলাদাভাবে গুরুত্ব দিন। সে সব প্রশ্নের উত্তর আপনি ভুলে যাচ্ছেন তা আলাদাভাবে নোট করে রাখুন। বারবার সে বিষয়গুলো ঘুরে ফিরে পড়ুন। দেখবেন কঠিন বিষয়ও আপনার কাছে পানির মত সহজ হয়ে যাচ্ছে। তাই বলে কঠিন পড়ে পড়ে আবার সহজ অধ্যায়ের পড়া ছেড়ে দিয়েন না। তাহলে সহজ অধ্যায়ও কঠিন হয়ে যাবে বা সে অধ্যায়ের প্রশ্ন আসলে অসুবিধায় পড়ে যাবেন।

অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে আপনার উপস্থিতি কমান

অনলাইনে সার্ফিং এবং সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে আপনার উপস্থিতি নিয়ন্ত্রিত মাত্রায় হতে হবে। বিশেষ প্রয়োজনে আপনি অনলাইনে যাবেন। অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে অযথা সময় নষ্ট করলে আপনার পড়াশোনার সময় নষ্ট হবে। দেখা যাচ্ছে চাকরির বিজ্ঞপ্তি বা কোন অধ্যায়ের পড়ার সমাধান কিংবা বিগত বছরের প্রশ্নপত্র খোঁজার জন্য আপনি অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ব্যবহার করছেন। কিন্তু আপনি যদি আত্মার তৃপ্তির জন্য ঘন্টার পর ঘন্টা অনলাইনে সার্ফিং করে বা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ব্যবহার করেন তাহলে আপনি ১০টি কেন ১০০টি আবেদন করেও চাকরি পাবেন না। তাই ১০ টি আবেদনে ১টি চাকরি পেতে নিয়ন্ত্রিত মাত্রায় অনলাইনে সার্ফিং এবং সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ব্যবহার করুন।

ধর্ম ও নৈতিকতার চর্চা করুন

ধর্মীয় অনুশীলন ও বিশ্বাস মানসিক স্থিরতা, আশা ও আত্মনিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে সহায়তা করে। ফলে আপনি আত্মবিশ্বাসী হবেন যে সৃষ্টিকর্তা আমার পরিশ্রম বৃথা যেতে দেবেনা আমাকে একটা ব্যবস্থা করে দেবেনই। তবে দোয়ার পাশাপাশি পরিশ্রম ও প্রস্তুতিও চালিয়ে যেতে হবে। শুধু দোয়া করে প্রস্তুতি না নিলে তো সৃষ্টিকর্তা নিজ হাতে আপনাকে সাফল্য এনে দিবেনা। নিজের কাজ নিজে করতে হবে পাশাপাশি সৃষ্টিকর্তার ওপর ভরসা রাখতে হবে। এতে চাকরির পরীক্ষায় টেকা সহজ হবে।

কঠোর পরিশ্রম

অনেক সফল ব্যক্তি শুধুমাত্র ৬ মাস পড়াশোনা করে চাকরি পেয়েছে। কিন্তু ঐ ৬ মাস তাদের বন্ধু-বান্ধব, ঘুরা-ফিরা, আনন্দ-ফূর্তি করে সময় কাটানোর কোন সময় ছিল না। শুধু পড়াশোনা আর পড়াশোনা। দৈনন্দিন আবশ্যকীয় কাজকর্ম ব্যতীত সব সময় পড়াশোনা করে গেলে ৬ মাসই যথেষ্ট। খুব সকাল সকাল উঠে পড়াশোনা করলে তা মনে থাকে ভালো। কথায় আছে, “Early to bed and early to rise makes a man healthy wealthy and wise” তাই আপনাকে সকাল সকাল উঠে পড়তে বসতে হবে। আবার খুব বেশি রাত জাগারও দরকার নেই। ৭-৮ ঘন্টা দৈনিক ঘুমাবেন। পুষ্টিকর খাবার খাবেন। ইনশাআল্লাহ সাফল্য আসবেই।

১০টি আবেদনকে আপনার পরিকল্পনার অংশ বানান

সবশেষে একটা কথায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সেটা হলো—শুধু ১০টি চাকরিতে আবেদন করে ১টি চাকরি নিশ্চিত করতে হলে আপনাকে সঠিক যোগ্যতা + লক্ষ্য নির্ধারণ + নিয়মিত প্রস্তুতি + পূর্বের প্রশ্ন বিশ্লেষণ + মডেল টেস্ট + উপযুক্ত সময়ে আবেদন + আপনার সফল পরীক্ষা —এই সমন্বয় করতে হবে। কোনটির ঘাটতি হলে আপনি পিছিয়ে পড়বেন। তখন আপনার আবেদনের সংখ্যা বাড়বে। চাকরি পাওয়ার জন্য হাজার জায়গায় অন্ধভাবে আবেদন করার প্রয়োজন নেই। নিজের যোগ্যতা, দক্ষতা ও লক্ষ্য অনুযায়ী ১০টি ভালো সুযোগ বেছে নিন। প্রতিটি পরীক্ষার জন্য পরিকল্পিতভাবে প্রস্তুতি নিন, নিজের ভুলগুলো সংশোধন করুন, কঠোর পরিশ্রম করতে থাকুন এবং ধারাবাহিকভাবে চেষ্টা চালিয়ে যান। মনে রাখবেন, চাকরি নিশ্চিত করার কোনো শর্টকাট নেই; তবে সঠিক পরিকল্পনা আপনার অল্প সময় ও পরিশ্রমকে অনেক বেশি কার্যকর করে তুলতে পারে। তবে আমাদের বিশ্লেষণ মোতাবেক আপনি কাজ করলে ১০ টি আবেদনে ১ টি চাকরি পাবেন এ আশাবাদ ব্যক্ত করছি। আপনি আরো পড়তে পারেন- কিভাবে অনলাইনে নির্ভুলভাবে চাকরির আবেদন করতে হয়? আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ লেখা পড়াশোনার পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়নের জন্য সেরা ৫ টি কোর্স সম্পর্কে পড়তে পারেন।

1 thought on “যেভাবে ১০টি চাকরির আবেদনেই আপনার চাকরি নিশ্চিত করবেন”

Leave a Comment