উচ্চতর গণিত অনেকের কাছে কঠিন ও ভীতিকর একটি বিষয়। বিশেষত বীজগণিত, ক্যাল কুলাস, জ্যামিতি, ত্রিকোণমিতি, ভেক্টর, ম্যাট্রিক্স কিংবা জটিল সংখ্যার মতো অধ্যায়গুলো বুঝতে গিয়ে বিভিন্ন সমস্যা পড়তে হয়। তবে উচ্চতর গণিতে দুর্বল হলে এর সমাধান আছে। আপনার শুধু প্রয়োজন সঠিক গাইডলাইন। একজন ভালো শিক্ষকের কাছে থেকে অংকগুলো বুঝে নিলে, নিয়মিত অনুশীলন এবং ভুলগুলো বিশ্লেষণ করার মাধ্যমে ধীরে ধীরে এই দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। আপনার শুধু প্রয়োজন শুধু ধৈর্য, চেষ্টা।
১নং কাজ: নিজের দুর্বল জায়গা চিহ্নিত করা
উচ্চতর গণিতে ভালো করার প্রথম ধাপ হলো আপনি কোন কোন অধ্যায়ে বা কোন কোন অংকে দুর্বল তা খুঁজে বের করা। যেমন অনেকে ক্যালকুলাসে দুর্বল আবার জ্যামিতিতে ভালো। কারণ পরিমাপের একক ও সূত্রগুলোতে সে পারদর্শী। অর্থাৎ কারো দুর্বলতা শুধু বীজগণিতের সূত্র প্রয়োগে, কারও ক্যালকুলাসে, আবার কারও ত্রিকোণমিতিতে। তাই কোন অধ্যায়ে বেশি ভুল হচ্ছে, কোন ধরনের অঙ্ক করতে সময় বেশি লাগছে এবং কোন সূত্রগুলো মনে থাকে না—এসব লিখে রাখুন। এরপর দুর্বল অধ্যায়গুলোয় জোর দিয়ে পড়া শুরু করেন। এতে আপনি সফল হবেনই।
২ নং কাজ: ব্যাসিক ধারণা পাকাপোক্ত করা
উচ্চতর গণিতের বড় বৈশিষ্ট্য হলো একটি অধ্যায়ের ধারণার সাথে অন্য অধ্যায়ের সম্পর্ক। তাই ভিত্তি দুর্বল থাকলে পরবর্তী বিষয়গুলো বুঝতে সমস্যা হয়। আগে সহজ অধ্যায়গুলো পড়ে শেষ করতে হবে। যেন এ্যাডভান্স অংকে তার ধারণা কাজে দেয়। যেমন বীজগণিতের মৌলিক ধারণা দুর্বল হলে ক্যালকুলাসের অনেক অঙ্ক কঠিন মনে হতে পারে। সূত্র শুধু মুখস্থ না করে সূত্রটি কীভাবে কাজ করে এবং কেন ব্যবহার করা হয় তা বোঝার চেষ্টা করুন। একটি ধারণা পরিষ্কার হলে একই ধরনের অনেক অঙ্ক নিজে থেকেই সহজ হয়ে যাবে। শুধু অধ্যায়ের অংকই নয় বরং অনুশিলনী এবং বিভিন্ন পরীক্ষায় আসা অংকগুলো প্রাকটিস করুন।
৩ নং কাজ: সূত্র মুখস্থের পাশাপাশি প্রয়োগ করুন
গণিতে সূত্র জানা গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু শুধু সূত্র মুখস্থ করে যদি প্রয়োগ করতে না পারেন তাহলে ভালো ফল আশা করা যায় না। কোন অঙ্কে কোন সূত্র ব্যবহার করতে হবে—এটাই আসল বিষয়। প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্রের পাশে তার ব্যবহার লিখে রাখতে পারেন। একই সূত্র দিয়ে কয়েক ধরনের অংক সমাধান করেন। এতে সূত্রটি কখন এবং কীভাবে প্রয়োগ করতে হয়, তা পরিষ্কার হবে।
৪ নং কাজ: বড় অঙ্ক দেখে ভয় না পেয়ে ধাপে ধাপে সমাধান করুন
অনেক সময় বড় বা জটিল অঙ্ক দেখেই অনেকে ভয় পেয়ে যায়। ফলে ম্যাথটি সহজ হলেও করা যায় না বা বোঝা মনে হয়। এতবড় অংক কিভাবে করবো? কিভাবে সমাধান পাবো এসব ভীতি আগে থেকেই কাজ করে। অভ্যাস পরিবর্তন করা জরুরি। একটি কঠিন ম্যাথকে ছোট ছোট ধাপে ভাগ করেন। প্রথমে প্রশ্নে কী দেওয়া আছে তা লিখুন। এরপর কী বের করতে হবে তা নির্ধারণ করেন। প্রয়োজনীয় সূত্র নির্বাচন করুন এবং ধাপে ধাপে হিসাব করুন। দেখবেন আস্তে আস্তে সহজ হয়ে আসছে। কোনো ধাপে আটকে গেলে পুরো অঙ্ক বাদ না দিয়ে শুধু সেই ধাপটি নিয়ে চিন্তা করেন। এভাবে অনুশীলন করলে জটিল অংকও ধীরে ধীরে আয়ত্তে চলে আসবে।
৫ নং কাজ: গণিতের উপর আগ্রহ সৃষ্টি করা
গণিতকে নিমপাতার রস না ভেবে আখের রস ভাবুন। অর্থাৎ গণিতকে সহজভাবে নেন। আপনি প্রথমেই গণিতের উপর ভীতি বা অরুচি নিয়ে বেশিদূর আগাতে পারবেন না। সহজ ভাবে নেন, আগ্রহ সহকারে ধাপে ধাপে গণিত সমাধান করবেন দেখবেন ইজি হয়ে গেছে। আর দৈনিক একবার হলেও কঠিন সূত্রে গুলো চোখ বুজে পাঠ করবেন। যেটা ভুলে যাবেন অমনি সেটা ঝালাই করে নিবেন। তাহলে কঠিন বিষয়ও আর কঠিন থাকবে না। আর আপনি শুরু থেকে একটু একটু করে সাফল্য পেলে দেখবেন দিন দিন গণিতের উপর আগ্রহ সৃষ্টি হবে। তখন নিজেকে আশেপাশের আর ১০ জনের থেকে এগিয়ে থাকা ব্যক্তি মনে হবে। কেননা আপনি যেসব কঠিন ম্যাথ পারেন আর দশজন সেটা পারে না।
৬ নং কাজ: ভুল অংক বিশ্লেষণ ও একটি খাতা তৈরি
কোন নির্দিষ্ট অধ্যায়ের কোন অংক করতে গিয়ে যদি বারবার ভুল হয় তাহলে একটি পাকা খাতা তৈরি করে সেখানে লিখে রাখতে হবে। এভাবে সব অধ্যায়ের যেসব অংক বারবার ভুল হয় সেগুলো পাকা খাতা দেখে বারবার অনুশিলন করতে হবে। তাহলে দেখবেন যে, আর কোন অংকই আপনার কাছে কঠিন মনে হচ্ছে না।
৭ নং কাজ: বিগত বছরের প্রশ্ন সমাধান বিশ্লেষণ
বিগত ৩ থেকে ৫ বছরের প্রশ্ন বিশ্লেষণ করলে কোন অধ্যায় থেকে কী ধরনের প্রশ্ন আসে, তা পরিষ্কার হয়ে যায়। এতে প্রশ্নকর্তার মানসিকতা এবং কোন টপিকগুলো থেকে প্রশ্ন বেশি হয়, সে বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়। এবার সে ধারণা নিয়ে কোন কোন অধ্যায়ে আপনি দুর্বল তা চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেন। পুনরাবৃত্তিমূলক টপিক চিহ্নিতকরণ বোর্ড পরীক্ষায় বা বিভিন্ন মূল্যায়নে কিছু নির্দিষ্ট থিওরি, উপপাদ্য ও গাণিতিক সমস্যা বারবার আসে (যেমন: ত্রিকোণমিতি, স্থানাঙ্ক জ্যামিতি, ক্যালকুলাস বা ভেক্টর)। এই গুরুত্বপূর্ণ টপিকগুলোর একটি তালিকা তৈরি করে সেগুলোর ওপর আলাদাভাবে জোর দেন। আরেকটা কথা বলি সেটা হলো কেবল উত্তর দেখলে চলবে না, ঘড়ি ধরে একা একা পরীক্ষা দেওয়ার মতো করে বিগত বছরের প্রশ্ন সলভ করার অভ্যাস করেন। এতে হবে কি পরীক্ষার হলে লেখার গতি বাড়বে এবং নির্দিষ্ট সময়ে সম্পূর্ণ খাতা শেষ করার দক্ষতা তৈরি হবে। নিয়মিত এই পদ্ধতিতে পড়াশোনা করলে উচ্চতর গণিতের প্রতি ভয় কেটে যাবে এবং পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জন সহজ হবে।
উপসংহার
পরিশেষে একটা কথাই বলবো সেটা হলো উচ্চতর গণিত কোনো ভয়ের বিষয় নয়, বরং এটি নিয়মিত চর্চা এবং সঠিক কৌশল অবলম্বন করেন, দেখবেন উচ্চতর গণিত সহজেই আয়ত্ত করা সম্ভব। মূল সূত্রগুলোর পেছনের যুক্তি বোঝা, প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় ধরে অনুশীলন করা এবং বিগত বছরের প্রশ্ন বিশ্লেষণের মাধ্যমে নিজের ভুলগুলো শুধরে নেওয়া সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। একটু ধৈর্য ও নিয়মানুবর্তিতা বজায় রেখে এগিয়ে গেলে দেখবেন এই বিষয়ে কাঙ্ক্ষিত ও চমৎকার ফলাফল অর্জন করা নিশ্চিত। আর আমাদের ওয়েবসাইটের শিক্ষা বিষয়ক বিভিন্ন আর্টিকেল পড়বেন দেখবেন আপনার উপকারে আসবেই। আপনি পড়তে পারেন: পড়াশোনার পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়নের জন্য সেরা ৫ টি কোর্স